কম বিনিয়োগে বেশী অর্থোপার্জণে কিছু অভিনব ব্যবসায়িক ধারণা

বহু প্রাচীন কাল থেকেই অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে পশু পালন একটি উন্নত মাধ্যম। যতো ই দিন যাচ্ছে পশু পালন ততোই আরও আধুনিক হচ্ছে। তবে সেই প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গেলেও দেখা যাবে, পশুপালন বড় আকারে করা হোক বা এবং ক্ষুদ্রতর ভাবে, উভয়ই লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আর বর্তমানে ত বেশিরভাগ মানুষ কৃষি খাতের দিকে এগিয়ে চলেছে, কারণ কৃষি ব্যবসা বেশ লাভজনক।

যদি আপনি নিজের ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন, তবে আজ আমরা আপনাকে এই নিবন্ধে এমন কয়েকটি প্রাণী পালিতা সম্পর্কে বলব, যাতে আপনি কম বিনিয়োগে সহজেই বেশী অর্থোপার্জন করতে পারবেন। এগুলি এমন গ্রামীণ ব্যবসায়িক ধারণা, যা আপনাকে ভবিষ্যতে ভাল লাভ দেবে, সুতরাং আসুন এই ধারণাগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

একটি দুর্দান্ত প্রাণীসম্পদ ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনার বাড়ির উঠোনের সামান্য জায়গা এবং বাজার থেকে ভালো প্রজাতির পশু নির্বাচন করা আবশ্যক। আপনার বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত জায়গা না থাকে তবে আপনি ভাড়া নিয়ে জায়গা নিতে পারেন। প্রাণীসম্পদের মধ্যে সর্বাধিক লাভজনক যে যে ব্যবসাগুলি আপনি করতে পারেন, তার উল্লেখ নিম্নে করা হল-

মৎস্য চাষ (Fish Farming) –

নিজের পুকুর বা জলাশয় থাকলে মাছ চাষ করে ভাল লাভ করা যায়। এখন চৌবাচ্চায়ও মাছ চাষ করা হয়। এছাড়া বায়োফ্লকে মাছ চাষ এখন বেশ জনপ্রিয় ও লাভজনক। আর যাদের জলাশয় নেই, তারা কৃত্রিম ট্যাঙ্কগুলিতে মাছ চাষ বাড়িয়ে তুলতে পারেন। আপনি বিভিন্ন ধরণের কার্প ফিশ, চিংড়ি, ক্যাটফিশ, সালমন এবং চিংড়ি বাড়িয়ে তুলতে পারেন। মাছ চাষের ব্যবসা শুরু করার সময়, স্থানীয় চাহিদা বোঝার জন্য বাজার গবেষণা এবং বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। আজকাল অর্নামেন্টল মাছ চাষও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে/জৈব পদ্ধতিতে চাষ করলে মাছের উৎপাদন ভালো হয়। উৎপাদন বেশী হওয়ায় তা বিক্রি করে আপনি ভালো লাভ করতে পারেন।

মুরগি পালন (Poultry Farming) –

একজন ব্যক্তি মাংস এবং ডিম দুটি জিনিসের জন্য হাঁস-মুরগির খামার শুরু করতে পারেন। সাধারণত ডিম উত্পাদনকারী মুরগিকে আলাদা করে রাখা হয় এবং মাংস উত্পাদনকারী মুরগি ব্রয়লার আলাদা করে বিক্রি হয়। হয়। মুরগির মাংসের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ার সাথে সাথে হাঁস-মুরগি পালন আপনার জন্য একটি লাভজনক পশুর ব্যবসা। সর্বোত্তম বিষয়টি হ’ল আপনি সহজেই ছোট আকারে এটি শুরু করতে পারবেন এবং পরে সফলভাবে তা বৃহত্তর ভিত্তিতে শুরু করতে পারেন।
ছাগল পালন (Goat Farming)

ছাগল পালন কৃষকদের জন্য লাভজনক পশুর ব্যবসা। ছাগলের দুধ, সুস্বাদু মাংস ভালো দামে বাজারে বিক্রি হয়। ছাগল চাষের আরেকটি সুবিধা হ’ল এর জন্য স্বল্প বিনিয়োগ দরকার তবে এর বিনিময়ে কৃষকরা উচ্চ মুনাফা পেয়ে থাকেন। এছাড়াও অন্যান্য প্রাণীসম্পদের প্রাণীর তুলনায় ছাগলের দেহের আকার ছোট হওয়ায় এই প্রাণী রাখার জন্য আপনার কোনও বড় ক্ষেত্রের প্রয়োজন নেই। এছাড়াও, ছাগল পালন বিনিয়োগের পরিমাণের উপর নির্ভর করে দ্রুত এবং উচ্চতর আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে।

কোয়েল চাষ (Quail Farming)-

যদিও কোয়েল একটি ছোট পোল্ট্রি পাখি তবে এর চাষ খুব লাভজনক। কোয়েল চাষের কয়েকটি সুবিধার মধ্যে রয়েছে দ্রুত বৃদ্ধি, স্বল্প প্রজন্মের ব্যবধান এবং ডিম উৎপাদনে দীর্ঘায়িত। এছাড়াও, কোয়েল মাংসে কম ফ্যাট এবং কম ক্যালোরি রয়েছে যা এটি আশেপাশের স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত খাবার হিসাবে তৈরি করে। এছাড়াও কোয়েল মাংস এবং ডিমগুলি ভিটামিন, প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ফসফোলিপিডস এবং অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডগুলির সমৃদ্ধ উত্স।

খরগোশ চাষ (Rabbit Farming) –

খরগোশ পালন এখন লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। অ্যাঙ্গোরা প্রজাতির খরগোশ ভাল মানের জন্য পালন করা হয়। স্বল্প জায়গায় এর পালন করা যায় এবং অল্প খরছে অধিক উৎপাদন সম্ভব। এই প্রাণী তার মাংসের জন্য বিক্রয় হয়। খরগোশের মাংস অধিক পুষ্টিমান সম্পন্ন ও উন্নতমানের হওয়ায় ভালো মূল্যে তা বিক্রয় হয়। সুতরাং, এর বাণিজ্যিক পালন বেশ লাভজনক।

মৌমাছি পালন (Bee keeping) –

খাঁটি মধুর চাহিদা দিন দিন বাজারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই মৌমাছি পালনও লাভজনক ব্যবসা। এই ব্যবসার জন্য অনেক জায়গায় প্রশিক্ষণও সরবরাহ করা হয়।

তথ্যসূত্রঃ কৃষি জাগরন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *